শুক্রবার , ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

প্রকাশিত: ১৮:৪৪, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

কোন পথে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়?

কোন পথে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়?

বেসরকারিভাবে সাশ্রয়ী ব্যয়ে উচ্চশিক্ষা দেয়ার মানসে ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রথম সারির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি। স্বনামধন্য এই শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানটি বিগত কয়েক বছরে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে মেধার চেয়ে ব্যবসায়িক মনোভাবকে প্রাধান্য দেয়াতে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি, র‍্যাঙ্কিং নামের অসুস্থ প্রতিযোগীতায় নেমে শিক্ষকদের উপর অযাচিত প্রশাসনিক, দাপ্তরিক, বা করণিক দায়িত্ব চাপিয়ে, ব্যয় সাশ্রয়ের নামে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় নিয়ম বহির্ভূত কৃচ্ছসাধন করে, ব্যবসায়িক স্বার্থসিদ্ধির জন্য কোনরকম জবাবদিহিতার তোয়াক্কা না করে খেয়ালিভাবে সার্ভিস-রুল ভঙ্গ করে, এবং প্রকাশ্য মিথ্যাচারের মাধ্যমে আভ্যন্তরীণ দুর্দশা ধামাচাপা দিয়ে শিক্ষার পরিবেশকে অবিশুদ্ধ করে ফেলেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্য নিয়োগ সার্ভিস-রুল ভঙ্গ সংক্রান্ত অনিয়মের এক দারুন দৃষ্টান্ত। প্রতিষ্ঠানটির সার্ভিস-রুল ৩৬(২)(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন কর্মকর্তা/কর্মচারী কোন রাজনৈতিক সংগঠন বা এর অঙ্গ-সংগঠনের সাথে কোনরকম সম্পৃক্ততা রাখতে পারবে না এবং কোন রাজনৈতিক কর্মসূচীতে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারবে না। ২০২৩ সনের অক্টোবর মাসে প্রফেসর ড. শামস রহমান যখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন, তখনো তিনি বাংলাদেশের সদ্য সাবেক স্বৈরাচারী সরকারি দল আওয়ামী লীগের ৫৬ সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির বিশেষায়িত পাঁচজন সদস্যের অন্যতম হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। এই কমিটিকে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার নির্দেশে দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২৪ জুলাই ২০২৩ তারিখে অনুমোদন দেয়া হয়; বিভিন্ন গণমাধ্যমে সেই স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি সহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিলো।

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী-পন্থী স্বৈরশাসকের দোসররা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বহু সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নেয়; কিন্তু এই স্বৈরাচারের বিশেষ দূত, ড. শামস রহমান, তার মিষ্টভাষা, শিক্ষাবিদ পরিচয়, ও মিডিয়ার সামনে সুবিধাবাদী অভিনয়ের সুবাদে এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বৈষম্য ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সাহসী ভূমিকা সার্বজনীনভাবে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু, ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিছু শিক্ষকের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া, বিশেষ করে আন্দোলনের শুরুর দিকে, এই প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন। এমনকি, শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি জানিয়ে বিবৃতি দেয়া এবং হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে মানববন্ধন করার জন্য যখন শিক্ষকদের মধ্য থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়, তখনো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিঃস্পৃহ নিরবতা পালন করে। অথচ, গণ-আন্দোলনের প্রেক্ষিতে স্বৈরাচারী সরকার মুমূর্ষু অবস্থায় পৌঁছানোর পর, সুযোগ বুঝে, ড. শামস রহমানের নেতৃত্বে ভোল পাল্টানো কিছু কর্তাব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের ভাগাড়ে পড়ে থাকা অব্যবহৃত বিস্কুটের প্যাকেট আর নামমাত্র সংখ্যক কোমল পানীয়ের বোতল হাতে রাস্তায় নেমে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জন্য সহমর্মিতার নাটক করে, যা উপাচার্যের ভাড়া করা ক্যামেরা ফুটেজের সাহায্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয় এবং এভাবে শিক্ষার্থীদের আবেগকে পুঁজি করে এরা নিজেদের ভাবমূর্তি পরিচ্ছন্ন করে।

ড. শামস রহমানের সার্ভিস-রুল ভঙ্গ সংক্রান্ত অনিয়মের দ্বিতীয় দৃষ্টান্তটি শিক্ষকদের চাকরি নবায়ন সংক্রান্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ভিস-রুল ৯(১) ও (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের পর এক বছর পর্যন্ত পরীক্ষামূলক (প্রবেশন) নিয়োগ থাকবে। এরপর, প্রথমত দুই বছর এবং তার পরবর্তী প্রতিবারে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত চাকরির সময়কাল নবায়ন হবে। উপাচার্য নিজ খেয়ালে এই নিয়ম ভঙ্গ করে পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে কর্মরত শিক্ষকদেরও দুই বছরের বেশি নবায়ন দেন নি, এখনো দিচ্ছেন না।

তৃতীয়ত, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে দৈনন্দিন ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিরত সবার বেতন স্কেল একটি যুক্তিসঙ্গত সময় পর পর (সাধারণত, প্রতি তিন বছরে একবার) বৃদ্ধি করার একটি নীতিগত চর্চা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল। ২০১৯ সালের পরে কোভিড মহামারীর কারণ দেখিয়ে যা স্থগিত করা হয় এবং পাঁচ বছর পর, মালিক পক্ষের সাথে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের আলোচনায় ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে ২০% হারে বেতন বৃদ্ধির একটি সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু একদম শেষ সময়ে, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের কারো সাথে কোনরকম যোগাযোগ না করে উপাচার্য ড শামস রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বি-ও-টি সভাপতি (অবিসংবাদিত মালিক) ড মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বেতন বৃদ্ধির হার ২০% থেকে ১০%-এ নামিয়ে আনেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিরত সবার মধ্যে গণঅসন্তোষের জন্ম দেয়। বেতনবৃদ্ধি নিয়ে ব্যক্তিগত এই স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যেই শিক্ষকদের বাৎসরিক কোর্স লোড (একজন শিক্ষক বছরে নূন্যতম কতগুলো কোর্স পড়াবেন) বাড়ানোর ব্যাপারে উপাচার্যের স্বাক্ষরিত চিঠি প্রেরণ করা করা হয় যা বস্তুত ওই ১০% বেতন বৃদ্ধিকেও নাকচ করে দেয়। ব্যবসায়িক মুনাফা লাভের এই প্রবৃত্তি আরো নগ্নভাবে প্রকাশ পায় যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণ-ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়; ফলে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কোর্স ও ক্লাসরুম সংকুলান করতে না পেরে বিভাগীয় প্রধানদের চাপ দিয়ে প্রতি কোর্সে পাঁচ থেকে নয় জন করে বাড়তি শিক্ষার্থী ঢোকানো হয়। শিক্ষকদের উপর এভাবে বাড়তি বোঝা চাপিয়ে মালিকপক্ষের আর্থিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত হলেও শিক্ষার মান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিছক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বানানোর এই নির্লজ্জ প্রক্রিয়ার নবতম সংযোজন হচ্ছে ২০২৫ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যায় আরো ২০% বাড়ানো।

শিক্ষকদের অসন্তোষের তোয়াক্কা না করে কাজের পরিবেশ অবিশুদ্ধ করলেও বিভিন্ন সময়ে মালিকপক্ষ প্রকাশ্য মিথ্যাচারের মাধ্যমে এই আভ্যন্তরীণ দুর্দশা ধামাচাপা দিতে সচেষ্ট। প্রথম উদাহরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনমঞ্চে মিডিয়ার সামনে দাবী করা হয় যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-ছাত্রের অনুপাত ১:২৯, অর্থাৎ প্রতি ২৯ জন ছাত্রের বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকার কথা। বাস্তবে শিক্ষকদের এমন কোর্সও পড়াতে হচ্ছে যেখানে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৫-৫৫ জন। দ্বিতীয়ত, ভাতাসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী সকল নারী কর্মজীবীর মৌলিক অধিকার। এই প্রতিষ্ঠান কোন নারী কর্মজীবীর চাকরির সময়কাল তিন বছর না হলে সে ছুটি দেয় না। উপরন্তু, নারী দিবসের মত উপলক্ষ উদযাপনের মঞ্চে দাবী করা হয় যে দুই বছর চাকরি করলে ভাতাসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি দেয়া হয়। প্রকাশ্যে দাবী করা আরেকটি মিথ্যাচার হচ্ছে, এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম টিউশন ফী নেয় এবং শিক্ষকদের সবচেয়ে বেশি বেতন দেয়, যার কোনটিই সত্যি নয়।

অ্যাক্রেডিটেশন ও র‍্যাঙ্কিংয়ের নামে এক অসুস্থ প্রতিযোগিতার কথাও প্রসঙ্গত চলে আসে। বিশ্বব্যাপী কিছু সংস্থা আছে যারা নির্বাচিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের র‍্যাঙ্কিং করে থাকে। কিছু সংস্থা বিশ্বাসযোগ্য ও নিরপেক্ষভাবে তা করলেও র‍্যাঙ্কিংকে পুঁজি করে অনৈতিক ব্যবসায়িক সুবিধা আদায়কারীরাও আছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক – যাদের মনোভাব ও অভিরুচি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সঞ্চালনার জন্য প্রয়োজন, তারা মোটা দাগে বিভিন্ন র‍্যাঙ্কিংয়ে ক্রমমান যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয় (বিশেষকরে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে) পছন্দ করলেও বেশিরভাগ সময়েই র‍্যাঙ্কিংয়ের প্রক্রিয়া, মানদণ্ড, ও র‍্যাঙ্কিং প্রণয়নকারী সংস্থার মান সম্পর্কে সচেতন থাকে না। এই প্রেক্ষিতে, যে কোন র‍্যাঙ্কিং প্রণয়নকারী সংস্থার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি অসুস্থ সমন্বয়ের প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়। বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বি-এ-সি), ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আই-কিউ-এ-সি), এবং সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউ-জি-সি) বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে র‍্যাঙ্কিং র‍্যাঙ্কিং খেলার তিন ক্ষমতাধর অনুঘটক। প্রথমত, উচ্চশিক্ষার বিষয়ভিত্তিক ভিন্নতাকে অগ্রাহ্য করে ঢালাওভাবে র‍্যাঙ্কিংয়ের মানদণ্ড নির্ধারণ করা, যেমন, যে পদ্ধতিতে প্রকৌশল বিষয়ের শিক্ষামান যাচাই হবে সেই একই পদ্ধতি ভাষা-সাহিত্য বা আইন বিভাগের উপর অযাচিতভাবে প্রয়োগ করা; এবং দ্বিতীয়ত, ফলভিত্তিক শিক্ষা (আউটকাম বেইসড এডুকেশন, বা, ও-বি-ই) চর্চার নামে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও তত্ত্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অপ্রয়োজনীয় ও অন্তঃসারশূণ্য কিছু করণিক চর্চাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দেয়ায় শিক্ষার মূল লক্ষ্য ও মান দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। র‍্যাঙ্কিং প্রণয়নকারী সংস্থার এসব ভুঁইফোড় তত্ত্ব না মানলে তাদের অ্যাক্রেডিটেশন দেয়া হচ্ছে না, অ্যাক্রেডিটেশন না নিলে র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে – ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাধ্য হয়ে সেই প্রতিযোগিতায় নামছে। র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে যাবার জন্য কিছু বিশ্ববিদ্যালয় যা করছে তা হলো, যে র‍্যাঙ্কিং প্রণয়নকারী সংস্থার যে তথাকথিত বিশেষজ্ঞরা মানদণ্ডগুলো নির্ধারণ করেছেন, তাদেরকেই বিশেষ লোভনীয় বেতন-ভাতায় নিয়োগ দিয়ে তাদের মাধ্যমেই মানদণ্ড পূরণ হয়েছে সাপেক্ষে স্বীকৃতি নিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিংয়ের ভুঁইফোড় মানদণ্ড অর্জনের জন্য শিক্ষকদের শিক্ষা-সংক্রান্ত কাজের বাইরে করণিক দায়িত্ব চাপিয়ে দিচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে, যে কাজ প্রযুক্তিগতভাবে (নির্বাচিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে) করা যায়, ব্যয় সংকোচনের নামে (সফটওয়্যার ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়) তা শিক্ষকদের মাধ্যমে হাতে কলমে করিয়ে নেয়ার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের পাঠদান তো ব্যহত হচ্ছেই, পাশাপাশি এ ধরণের করণিক বা দাপ্তরিক কাজে শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও ক্ষেত্রবিশেষে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকায় কার্য সম্পাদনও ঠিকভাবে হচ্ছে না। ফলে অন্যান্য মাঝারি মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়েও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় তথাকথিত র‍্যাঙ্কিংয়ে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। তাছাড়া, র‍্যাঙ্কিংয়ের বিভিন্ন মানদণ্ডের মধ্যে শিক্ষক শিক্ষার্থীর অনুপাত, আবাসন/পরিবহন সহ বিভিন্ন সেবা প্রদান, কাজের পরিবেশ, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগরক্ষা ও তাদের কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য পরিষেবা প্রদান – এই বিষয়গুলোও বিদ্যমান। যেহেতু এগুলো অর্জনের ক্ষেত্রে আর্থিক ব্যায়সংশ্লিষ্টতা আছে, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় এই মানদণ্ডগুলোর ক্ষেত্রে উদাসীন, ফলে সামগ্রিকভাবে র‍্যাঙ্কিংক্রমে নিম্নগামী।

শেষের আগে বলতে হয় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪তম সমাবর্তন আয়োজনে চরম বিশৃঙ্খলার কথা। মধ্য এপ্রিলের ভ্যাপসা গরম আর কালবৈশাখীর চোখরাঙানী উপেক্ষা করে আফতাবনগরের খোলা মাঠে শামিয়ানা টাঙ্গিয়ে আয়োজিত এই সমাবর্তনে সকালের প্যাকেট করা নিম্নমানের মোরগপোলাও দেয়া হয় দুপুরের খাবার হিসেবে, যে খাবার পচে গন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেউ খেতে পারেন নি। যারা উপায়ন্তর না পেয়ে ক্ষুধা নিবারণের জন্যে সামান্য খাবারও মুখে তুলেছেন, তাঁরা বমি ও পেটের পীড়া সহ নানা অসুস্থতায় পড়েছেন। দুপুরের বৃষ্টিতে শামিয়ানা ফুটো হয়ে ভেতরে অঝোর ধারায় পানি ঢুকেছে যাতে শামিয়ানার ভেতরে বাহিরে প্রায় পুরো প্রাঙ্গন পানিতে ভেসেছে। মানুষ পচে যাওয়া খাবার যেখানে সেখানে ফেলেছে, ছিলো না কোন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক চূড়ান্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, যার মাঝে চলেছে সমাবর্তন নামের নাটক।

এক কালে শেখ মুজিবের ব্যক্তিগত সহকারী থাকার সুবাদে পরবর্তীতে তোষামোদি পন্থায় বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের গভর্নর বনে যাওয়া আওয়ামী সহচর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, তাঁর পছন্দে উপাচার্য পদে নিয়োগ পাওয়া ড শামস রহমানের মত একজন মুখোশধারী আওয়ামী দালাল, এবং শিক্ষাবিদের চাইতে মুনাফালোভী ব্যবসায়ী পরিচয় বেশি প্রকট এমন ট্রাস্টিবোর্ড সদস্যরা পারস্পরিক যোগসাজশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-মানের সাথে আপোষ করে ব্যবসায়িক স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়াতে স্বনামধন্য এই শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানটি এমন এক পথে চলছে যে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম নিয়ে শঙ্কিত হবার যথেষ্ট কারণ আছে।

কোন পথে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়? – এই প্রশ্ন এখন করুণভাবে প্রাসঙ্গিক।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়